Hesperian Health Guides

ডায়াবেটিসের জন্য গণকার্যক্রম

একজন ব্যক্তির ডায়াবেটিস হলে সে তার তার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু যে পরিবর্তনগুলো মানুষকে আরো বেশী ডায়াবেটিস হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে তা শুধুমাত্র জনগোষ্ঠী পর্যায়েই সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির হয়তো কোন খাবার খাবে সেবিষয়ে তার নির্দিষ্ট পছন্দ থাকতে পারে, কিন্তু তার এলাকায় কোন ধরনের খাবার পাওয়া যায় বা তার ক্রয়ক্ষমতার উপর নির্ভর করে তার এই পছন্দের তালিকা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একজন ব্যক্তি হয়তো আরও বেশী করে অনুশীলন করতে চাইতে পারে কিন্তু তার বসবাসের এলাকা অনুশীলনের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ হবে কিনা তা সে বাছাই করতে পারে না। ডায়াবেটিস সৃষ্টি করে এবং ডায়াবেটিসের অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে সেই ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পরিবার ও জনগোষ্ঠীকে একত্রে নিয়ে আসাই সবথেকে ভাল।

বাচ্চা ও শিশুদের রক্ষা করুন

ডায়াবেটিস রোধ করতে মা ও শিশুদেরকে ভালভাবে খাওয়ান। ছেলে ও মেয়েদেরকে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য দিন। গর্ভাবস্থায় বা শিশুবেলায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের পরবর্তীতে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। শিশুদেরকে চিনি, মিষ্টি, বা অন্যান্য জঞ্জাল খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যে প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি

দু’জন নারী রান্না করছে।
একজন নারী বাগান করছে।

আপনার এলাকায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের বৈচিত্র্য, পরিমাণ, এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে:

  • রান্নার শিক্ষার আসর বসান যাতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ব্যপারে শিক্ষা দিতে পারেন। মানুষ যখন স্বাস্থ্যকর খাবারের স্বাদ ভাল এবং এগুলোকে কিভাবে রান্না করা যায় তা দেখে তখন তারা অবশ্যই সে সমস্ত খাবার খেতে চাইবে।
  • আপনার ঐতিহ্যের স্বাস্থ্যকর খাদ্যসংস্কৃতি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। প্রথাগত প্রিয় খাবারগুলো যদি অস্বাস্থ্যকর হয় তবে আমরা কতখানি খাব তা নির্দিষ্ট করে দেয়া সবথেকে ভাল। স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোকে চয়ন করুন এবং আপনার এলাকার বয়োজেষ্ঠোদের কাছ থেকে এর রন্ধনপ্রণালী জেনে নিন।
  • বিদ্যালয়গুলোকে ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যশস্য উৎপাদন, রান্না, ও খাওয়ার ব্যপারে শিশুদেরকে জড়িত করুন। বিদ্যালয়ে দেয়া নাস্তার সামগ্রী স্থানীয় শস্য, ফল, এবং সবজি থেকে তৈরী করা যেতে পারে। বিদ্যালয়ের মধ্যে ও এর কাছাকাছি জায়গায় শিশুদের কাছে জঞ্জাল খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় বিক্রয় করা বন্ধ করুন।
  • গণ রান্নাঘর প্রতিষ্ঠা করুন যাতে যে সমস্ত ব্যক্তির রান্নার করার কোন জায়গা নেই তারা যেন রান্না করতে পারে। স্বল্প-ব্যয়ের স্বাস্থ্যকর খাবার দলীয় ভাবে পরিবেশন করার ব্যবস্থা করা আর একটি সমাধান হতে পারে।
  • একটি গণ সবজি বাগান তৈরী করুন যেখানে মানুষ তাদের নিজেদের খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করতে পারবে। এমনকি স্বাল্প পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করলেও আপনি কিভাবে খাবেন এর মাধ্যমে একটি পার্থক্য সৃষ্টি হতে পারে। শহরের কোন কোন লোক ছাদের উপর, ঝুল-বারান্দায় বা খালি পরিত্যাক্ত জায়গায় খাদ্য উৎপাদন করে।
  • কৃষকদের বাজার বা খাদ্য সমবায় গঠন করুন যাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যে মানুষের প্রবেশগম্যতা থাকে এবং কৃষকরা তাদের শষ্যপণ্য বিক্রয় করার একটি জায়গা পায়। গণ খাদ্য প্রকল্পের উপর আরও তথ্যের জন্য পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ে জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সহায়িকা দেখুন।

শরীর চর্চা ও খেলাধুলার জন্য জায়গা তৈরী করুন

শহর এলাকায় মানুষ হয়তো নিরাপদ জায়গা নাও পেতে পারে যেখানে গিয়ে তারা সক্রিয় হতে পারে। তাই এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ফুটবল মাঠ, বাস্কেটবলের কোর্ট, এবং খেলার মাঠ নির্মাণ করেছে। এই জায়গাগুলো প্রায়শই এলাকাবাসীর একত্রিত হবার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

একদল লোক কথা বলছে

গণ শিক্ষা চালু করুন

ডায়াবেটিস কী, এটি কোথা থেকে এসেছে, এটি কী কী তীব্র সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, এবং প্রথম দিকে এর লক্ষণগুলো তীব্র না হলেও কেন এটিকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে এবিষয়ে শিক্ষা দিন। মানুষকে ডায়াবেটিস সংক্রান্ত তাদের যে সমস্যাগুলো আছে এবং কিভাবে তারা তা সামাল দিচ্ছে তা বলতে, এবিষয়ে তাদের মত বিনিময় করতে, ও প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন। তারা হয়তো একত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়া বা শরীরচর্চা করার পরিকল্পনা করতে পারে।

আলোচনা ও সে বিষয়ে সক্রিয় হবার জন্য অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে জল ও বায়ু দূষণ, বর্ণবাদীতা, এবং এলাকায় প্রভাব সৃষ্টি করে এমন অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

দলগত পরীক্ষার আয়োজন করুন

কারো মধ্যে চিহ্ন দেখা না দিলেও তাদের ডায়াবেটিস আছে কি নেই তা জানার একটি ভাল ‍উপায় হলো ডায়াবেটিস পরীক্ষার দিনগুলো। পৃষ্ঠা ২-এ দেয়া বিপদ চিহ্নগুলো যাদের মধ্যে আছে তাদেরকে বা যাদের বয়স ৪০-এর উপরে এবং ডায়াবেটিসযুক্ত পরিবারের সদস্য রয়েছে তাদেরকে পরীক্ষা করুন।

একটি বড় দলের লোকদেরকে পরীক্ষা করতে মূত্রপরীক্ষাই হয়তো সবথেকে সহজ হবে। রক্ত পরীক্ষাও কার্যকর কিন্তু সেটি তখনই করা উচিত যখন ব্যক্তিটি পরীক্ষার দিন না খেয়ে থাকবে, আদর্শ সময় হলো সকালে নাস্তা করার আগে । মূত্র পরীক্ষা করতে ব্যক্তিটির না খেয়ে থাকার কোন প্রয়োজন নেই, কিন্তু পরীক্ষকের উচিত পরীক্ষা সময় ও ব্যক্তিটি শেষ কখন খেয়েছে তা লিপিবদ্ধ করে রাখা, কারণ খাওয়ার পরই চিনির মাত্রা বেড়ে যায়। পরীক্ষার উপর আরও দেখুন

সহায়তা দল

একটি সহায়তা দল হলো এক দল মানুষের সমষ্টি যারা নিয়মিতভাবে (যেমন প্রতি এক বা দু’সপ্তাহে একবার) একত্রিত হয়ে একে অন্যকে সহায়তা করে। একটি এলাকা, একটি বিদ্যালয়, একটি গীর্জ্জা, বা একটি কর্মক্ষেত্রে যেখানেই একদল মানুষ একটি সহায়তা দল শুরু করতে চায় সেখানেই একটি শুরু করা যায়। কোন কোন সময় একজন মাঠ স্বাস্থ্য কর্মী, ক্লিনিকের কর্মী, বা শিক্ষক এটি পরিচালনা করতে পারে ও এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। অন্যান্য দলগুলো হয়তো তাদেরকে কদাচিত তাদের সভায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারে।

ডায়াবেটিসযুক্ত মানুষ তাদের নিজেদের পরিচর্যার যে সব বিষয় শিখেছে তা বিনিময় করা, যে সমস্ত বিষয় কঠিন সেগুলো আলোচনা করা, এবং একই জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত সে অনুভূতি পাবার জন্য মিলিত হয়। যারা সবে মাত্র তাদের ডায়াবেটিস আছে বলে জানতে পেরেছে তারা ডায়াবেটিস নিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু দিন ধরেই বসবাস করছে এমন ব্যক্তিদের সাথে মিলিত হয়ে উপকার পেতে পারে। সহায়তা দল হয়তো একটি পরিবার হিসেবে একত্রে রান্না করা ও খাওয়ার যে অসুবিধা তা আলোচনা করতে পারে কারণ এখন যেহেতু স্বাস্থ্যবান থাকার জন্য পরিবারের একজনের খাবার তালিকায় পরিবর্তন করা প্রয়োজন হচ্ছে। এবং দলটি সকলের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এলাকা তৈরী করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। সদস্যরা যদি একটি সহায়তা দলকে সাহায্যকারী বলে মনে করে তবে এটি অনেক বছর ধরে চলতে ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তিনজন নারী একটি সাইন লাগাচ্ছে যেখানে লেখা আছে ‘আজকের আলোচনা: কিভাবে আমাদের ডায়াবেটিস আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে’।

অন্যান্য গণ প্রচেষ্টা

 একদল লোক একটি সাইন ধরে আছে যাতে লেখা ‘আমাদের জল পরিষ্কার রাখুন!’ এবং ‘আমরা আমাদের পরিষ্কার জল চাই, আপনাদের বোতলজাত জল চাই না’।
  • যাদের ডায়াবেটিস থাকতে পারে তাদের জন্য বিনামূল্যের পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ঔষধ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার উপকরণগুলো যেন সহজলভ্য ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে হয় তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য সেবার কর্মকর্তাদের কাছে দাবী করুন।
  • নিরাপদ জলের জন্য লড়াই করুন যাতে বোতলে ভরে বিক্রয় করা জল বা অস্বাস্থ্যকর পানীয়ের জন্য খরচ কমানো যায়।
  • উৎসেই রাসায়নিক দূষণ রোধ করুন।
  • কীটনাশক ব্যবহারের পরিমান কমান।



এই পাতাটি হালনাগাদ করা হয়েছে: ২৩ জুলাই ২০১৯