Hesperian Health Guides

ঔষধ রক্ত চাপ কমাতে পারে

পুষ্টিকর খাবার ও আরও বেশী শরীর চর্চা উচ্চ রক্ত চাপযুক্ত বেশীরভাগ ব্যক্তিরই স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে। কোন কোন ব্যক্তির তাদের উচ্চ রক্ত চাপ কমানো ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঔষধও প্রয়োজন হতে পারে। আপনার যদি উচ্চ রক্ত চাপ থাকে এবং সাথে অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও থাকে তবে প্রতিদিন ঔষধ সেবন করার মাধ্যমে জরুরী অবস্থা এড়ানো যেতে পারে।

NWTND heart Page 13-1.png

রক্ত চাপের জন্য অনেক প্রকারের ঔষধ রয়েছে। এর সবগুলোই ভাল কাজ করে যদি প্রতিদিন সেবন করা হয়। আপনি যদি এগুলো নেয়া বন্ধ করে দেন তবে সাধারণতঃ আপনার রক্ত চাপ আবারও বেড়ে যাবে। যখন এই ঔষধগুলো একটি দীর্ঘ, সুন্দর জীবন কাটানোর জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দেয় তখন মানুষ এগুলো প্রতিদিন সেবন করায় অভ্যস্ত হয়ে যায়।

কোন কোন রক্ত চাপের ঔষধের অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যেমন ঘনঘন প্রশ্রাব করতে হয়, ডাইরিয়া, গা গুলোনো, বা কাশি হওয়া। তখন চট করে ঔষধ গ্রহণ করা বন্ধ করে না দিয়ে আপনার স্বাস্থ্য কর্মীকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার জন্য ভাল কাজ করবে এরকম অন্য কোন ঔষধ আছে কিনা। কিন্তু আপনার যদি কোন ফুসকুড়ি দেখা যায় বা ফুলে যায় তবে ঔষধ নেয়া বন্ধ করুন এবং আপনার স্বাস্থ্য কর্মীর সাথে যোগাযোগ করুন।

মানুষের হয়তো রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একাধিক ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে। রক্ত চাপের একাধিক ঔষধ গ্রহণ করছে এমন ব্যক্তিদের জন্য দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এগুলোকে গ্রহণ করার উপকার দেবে।

NWTND heart Page 13-2.png সাত দিনের একটি বড়ির বাক্স আপনাকে প্রতিদিন বড়ি খাওয়ার বিষয়ে মনে করিয়ে দেবে। আপনি নিজেও একটি বাক্স বানাতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে এটিতে ঔষধ ভরুন। NWTND heart Page 13-3.png

সচরাচর ব্যবহৃত হওয়া উচ্চ রক্ত চাপের ঔষধগুলো হলো:

  • মূত্রবর্ধক (“জলের বড়ি”)। এর কয়েকটি উদাহরণ হলো হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইড এবং ক্লোরথালিডোন। এগুলো আপনাকে ঘন ঘন মূত্র ত্যাগে বাধ্য করবে। এগুলো দেহের ভিতরে তরল পদার্থের পরিমাণ কমিয়ে রক্ত চাপের পরিমাণ কমিয়ে আনে।
  • ক্যালসিয়াম চ্যানেল রোধক। এগুলোর মধ্যে আছে এ্যামলোডিপিন, নিফেডিপিন, ডিল্টিয়াজেম, এবং ভেরাপামিল। এগুলো রক্তের শিরাগুলোকে সরু হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং তার রক্ত চাপ কমতে সাহায্য হয়।
  • এসিই রোধক ও এআরবি। এর কয়েকটি উদাহরণ হলো ক্যাপ্টোপ্রিল, এনালাপ্রিল, লিসিনোপ্রিল, এবং লোসারটেন। এগুলো রক্তের শিরাগুলোর সরু হয়ে যাওয়া রোধ করে রক্ত চাপ কমায়। এগুলো আপনার বৃক্ককে রক্ষা করে এবং প্রায়শই ডায়াবেটিসযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার করা হয় যাদের রক্ত চাপ কমানোরও প্রয়োজন আছে।
  • বেটা রোধক। এর কয়েকটি উদাহরণ হলো এ্যটেনোলল, মোটোপ্রলল, এবং কারভেডিলোল। এগুলো হৃদ স্পন্দনকে একটু কমিয়ে আনে যাতে হৃৎপিণ্ড কম শক্তি দিয়ে রক্ত পাম্প করে ও রক্ত চাপ কমায়। উচ্চ রক্ত চাপের চিকিৎসার জন্য এটি ব্যবহার করা হলে বেটা রোধক অন্যান্য মূত্রবর্ধকের সাথে বা অন্যান্য ঔষধের সাথে ব্যবহার করা হয়।


এছাড়াও উচ্চ রক্ত চাপের জন্য আরও অনেক ঔষধ রয়েছে যেগুলো এতো বেশী ব্যবহার করা হয় না।

কোন কোন বনৌষধী আপনার রক্তের চাপ কমাতে পারে

NWTND heart Page 15-1.png
বিছুটি (চোতরা) পাতায় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন কে, ফোলিক এ্যাসিড, এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে এবং তা উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এগুলো গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে নিরাপদ। কিন্তু এগুলো তোলার সময় আপনার হাত ঢেকে নিন নতুবা আপনার কাঁটা লেগে যেতে পারে!

আপনার এলাকায় জন্মানো অনেক উদ্ভিদই রক্ত চাপ কমানোর জন্য ব্যবহার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বিছুটি (চোতরা) পাতা (আরটিকা ডাইওইকা) আরও বেশী মূত্র ত্যাগ করতে আপনাকে সাহায্য করবে এবং দেহের মধ্যে বিদ্যমান তরল পদার্থ কমাবে যা রক্ত চাপ কমানোর একটি উপায়। জবা জাতীয় (হিবিস্কাস সাবডারিফা) ফুল রক্ত চাপ কমাতে পারে এবং অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়। বৈচী জাতীয় কাঁটাগাছের ফল এবং ফুল (ক্রাটাগাস) কোলেষ্টেরলের মাত্রার উন্নতি করে এবং দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের উন্নতি করে রক্ত চাপ কমায়। যদিও এই বৈচী জাতীয় কাঁটাগাছ গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার খাবারে রসুন ও হলুদের ব্যবহার রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

প্রায়শই এই বনৌষধীগুলো চা বা নির্যাসের আকারে প্রস্তুত করা হয়। আপনি আপনার এলাকার ধাত্রী, কবিরাজ, এবং বৃদ্ধাদেরকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন যে তারা উপকার গাছ-গাছড়া সম্পর্কে জানে কিনা, যেমন এগুলো কোথায় পাওয়া যায় বা কম দামে কেনা যায়, কিভাবে এগুলোকে প্রস্তুত করা হয়, এবং কোন ক্ষতি ছাড়াই কিভাবে এগুলোকে ব্যবহার করা যায়।

অন্যান্য ঔষধের মতোই বনৌষধী সাবধানে ব্যবহার করুন। এর কতটুকু পরিমাণ ব্যবহার করা সঠিক, এটি আপনি ইতোমধ্যেই সেবন করছেন এমন অন্যান্য বনৌষধ বা রাসায়নিক ঔষধের সাথে পারস্পারিক প্রতিক্রিয়া করে কিনা, এবং এটি গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করা নিরাপদ কিনা তা জানুন। অন্যান্য স্বাস্থ্যাবস্থার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোন কোন বনৌষধ রক্ত চাপ বাড়াতে পারে, তাই আপনি ইতোমধ্যেই ব্যবহার করছেন এমন বনৌষধ আপনার রক্ত চাপ বাড়িয়ে তুলছে কিনা তা জানুন।

উচ্চ রক্ত চাপযুক্ত বেশীরভাগ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বনৌষধ বা রাসায়নিক ঔষধ কোনটাই ভাল কাজ করবে না যদি তারা যথেষ্ট পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার না খায় ও শরীর চর্চা না করে। স্বাস্থ্যকর খাবার, পরিষ্কার জল, মৌলিক নিরাপত্তা, এবং ভাল জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

NWTND heart Page 15-2.png সারা পৃথিবীতে উচ্চ রক্ত চাপের চিকিৎসায় জবা জাতীয় (হিবিস্কাস) ফুল ব্যবহার করা হয়। এটিকে সাধারণতঃ রোজেল, রোজেলা, রেড সোরেল, জামেইকা, চুকুর, এবং বিশপ নামে ডাকা হয়। শুকানো পাতাগুলোকে ফুটানো জলের মধ্যে ৫ থেকে ৬ মিনিট ভিজিয়ে রেখে চা তৈরী করুন। ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ প্রতিদিন ৩ বার করে এক গ্লাস গরম বা ঠাণ্ডা চা পান করুন। আরও দীর্ঘ সময় ধরে পান করতে চাইলে কোন ক্ষতি নেই। এই সুস্বাদু চায়ে সামান্য চিনি দিয়ে বা চিনি ছাড়া পান করাটা সবথেকে ভাল কারণ চিনির কারণেই হৃৎপিণ্ডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, এবং অন্যান্য অবস্থাগুলোর অবনতি হয়।




এই পাতাটি হালনাগাদ করা হয়েছে: ২৩ সেপ্টে ২০১৯