Hesperian Health Guides

নতুন খাবার, নতুন সমস্যা

কারখানায় তৈরী খাবার যেমন মোড়কজাত বিস্কুট এবং নাস্তা, বিভিন্ন কোলা এবং অন্যান্য মিষ্টি, বোতলজাত পানীয় এখন সারা পৃথিবীতেই পাওয়া যাচ্ছে। এই ধরনের খাবারগুলো শহর এলাকাতেই বেশী সহজলভ্য, এবং বেশীরভাগ পল্লী এলাকার মানুষ নিদেনপক্ষে এর কিছু অংশ হলেও পেয়ে থাকে। এবং বেশীরভাগ মানুষই এগুলোর মিষ্টি বা নোনতা স্বাদকে পছন্দ করে। প্রায়শই আমরা এগুলোকে এতো বেশী পছন্দ করি যে আমরা এগুলোকে প্রতিদিন খাই বা পান করি, এবং আসল খাবারের পরিবর্তে এগুলো আমরা আমাদের শিশুদেরকে খাওয়াই।

চিপ্স, লেবেনচুষ এবং কোকা কোলা

লেবেনচুষ, কোলা এবং মোড়ককৃত নাস্তায় অতিরিক্ত পরিমাণে লবন, চিনি, চর্বি, এবং রাসায়নিক সংরক্ষক, এবং রং থাকে। এই অস্বাস্থ্যকর উপদানগুলো অনেক দিন ধরে একটু একটু করে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে যেমন দাঁতে পোকা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এবং কোন কোন ক্যান্সার। প্রক্রিয়াজাত না করা, স্থানীয়ভাবে তৈরী খাবারে পাওয়া যাওয়া ভিটামিন, আকরিক, আঁশ এবং প্রোটিন এই খাবারগুলোতে থাকে না। এই কারণেই এই খাবারগুলোকে বলা হয় জঞ্জাল খাবার।

কৌটাজাত খাবার এবং মোড়কজাত নুডুল্স এবং সুপ

কারখানায় তৈরী করা সাদা পাউরুটি, কৌটাজাত খাবার, বিস্কুট, এবং মোড়ককৃত মচমচে বিস্কুট বা নুডুল্‌সকে এই খাবারগুলোরই সতেজ, ঘরে তৈরী সংস্করণের মতোই স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে। বিজ্ঞাপন আমাদেরকে তাই বলে। কিন্তু এগুলো সাধারণত অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর চিনি, লবল, এবং রাসায়নিক দ্রব্য দ্বারা পরিপূর্ণ। এবং এগুলোতে ঘরে-রান্নর করা খাবার থেকে যে পুষ্টি উপাদানগুলো আমরা পাই তা থাকে না। এগুলোও লেবেনচুষ এবং মোড়কজাত নাস্তার মতোই জঞ্জাল খাবার।

বাজারের একটি স্টল থেকে দু’জন নারী সতেজ সবজি কিনছে
স্বাস্থ্যকর খাবার আসে মাটি থেকে,

কারখানা থেকে নয়।

ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ: নতুন খাদ্য ব্যবস্থার রোগ

দু’জন অতিরিক্ত ওজনের নারী বসে বসে সেলাই যন্ত্রে কাজ করছে

ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ হলো মানুষ কিভাবে খায় এবং কাজ করে তার পরিবর্তনের দ্বারা সৃষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা। যেখানে মানুষ এখনো তাদের নিজেদের খাবার নিজেরাই সংগ্রহ, উৎপাদন, এবং রান্না করে, এবং কৃষক বা কারিগর হিসেবে কাজ করে সেখানে এ রোগগুলো কদাচিত দেখা যায়। কিন্তু যেহেতু আরও বেশী করে মানুষ তাদের কাজ করার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, এবং খুবই সামান্য শরীরচর্চা (উদারহরণস্বরূপ, কারখানায় কাজ করা, বা একটি কম্পিউটারের সামনে কাজ করা) করতে পারছে এবং তারা আরও বেশী করে কারখানায় উৎপাদিত খাবারের উপর নির্ভর করছে, তাই এই রোগগুলো এখন সচরাচর দেখা যাচ্ছে। এগুলো কোন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট নয়, এমনকি এগুলো ছোঁয়াচেও নয়। এগুলো সক্রিয়তার অভাব, জঞ্জাল খাবারের উপর নির্ভরতা, বাড়তি মানসিক চাপ এবং আমাদের জীবনে অসমতার কারণে ঘটে থাকে। এই অবস্থাগুলোতে আমাদের দেহ ভালভাবে কাজ করতে পারে না।

ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ খুবই ভিন্ন দু’টি রোগ হলেও এগুলো হওয়ার পেছনে অনেক কারণগুলোই এক। এই রোগগুলোর প্রতিটিই অন্যটি হওয়ার পিছনে কারণ হতে পারে, এবং এই রোগগুলোর প্রতিটির চিকিৎসা করা ও রোধ করার উপায়গুলোও একই।


একজন মোটা ব্যক্তি

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস হলো এমনই একটি সমস্যা যা হলে দেহ খাবারে থাকা চিনি যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। এর ফলে অন্ধত্ব, অঙ্গহানী, দীর্ঘস্থায়ী সংজ্ঞাহীনতা, বা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

ডায়াবেটিস যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশগুলোতে সবথেকে সচরাচর দেখা যাওয়া রোগে পরিণত হয়েছে, এবং এটি সারা পৃথিবীতে এখন ধীরে ধীরে সচরাচর দেখতে পাওয়া রোগে পরিণত হচ্ছে। এর খাদ্য সংশ্লিষ্ট কারণগুলোর মধ্যে আছে অতিরিক্ত খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, এবং অনুশীলনের অভাব। যেখানেই কারখানায় তৈরী, সাদা আটা ও উচ্চমাত্রার চিনিযুক্ত খাবারের রাজত্ব সেখানেই ডায়াবেটিসের বসবাস।

হৃদরোগ ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া

  • উচ্চ রক্ত চাপ
  • হৃদরোগ
  • হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া


এগুলো আসলে মাত্র একটি স্বাস্থ্য সমস্যা: হৃদরোগ-এর বিভিন্ন অংশ। অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শরীর চর্চার অভাব (সাথে ধূমপান ও মানসিক চাপ) রক্ত নালীগুলোর মধ্যে চর্বি জমা হওয়ার কারণ ঘটায়। ফলে, এই পুরু হয়ে যাওয়া নালীগুলোর মধ্যে দিয়ে রক্ত প্রবাহিত করার জন্য হৃদপিণ্ডকে আরও বেশী জোরে রক্ত পাম্প করতে হয় যা উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে। হৃদপিণ্ডটি এই সমস্ত খাটুনির পরে ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে যায়। যে রক্ত মুক্তভাবে প্রবাহিত হতে পারে না সেগুলো জমাট বেঁধে যায়, এবং হৃদপিণ্ডটি ক্লান্ত হয়ে ও রক্তের প্রবাহ না পেয়ে কাজ করা বন্ধ করে দেয়, যাকে আমরা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া বলি।

বাতজনিত হৃদরোগ হৃদরোগের আরও একটি সাধারণ কারণ। এটি শিশু অবস্থায় বাতজনিত জ্বর হবার কারণে ঘটে।

বালিকা বাস্কেটবল খেলে আনন্দ করছে
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ রোধ ও এর চিকিৎসা করতে আমরা ব্যক্তি হিসেবে এবং আমাদের পরিবারে অনেক কিছুই করতে পারি। কিন্তু সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়েও পরিবর্তন করা প্রয়োজনীয়।

অনুশীলন: প্রতিদিন ৩০ মিনিট বা তার বেশী সময়ের জন্য আপনার হৃদপিণ্ডের গতিকে বাড়িয়ে তুলবে এমন দ্রুত হাঁটা, নাচা, খেলাধুলা করা, বা যে কোন অনুশীলন আপনার দেহের প্রতিটি প্রক্রিয়ার ভালভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয়। অনুশীলন হাড়গুলোকে মজবুত করে, বলশক্তির একটি অনুভূতি সৃষ্টি করে, মেজাজ ভাল করে, এবং আপনাকে দীর্ঘ সময়ে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

খাদ্য: প্রচুর পরিমাণে সতেজ সবজি, পূর্ণ দানা, এবং শিমের বীচি হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস রোধ ও চিকিৎসা করার জন্য সবথেকে ভাল।

  • লাল মাংস. দুগ্ধজাতীয় খাবার, এবং ডিম স্বাস্থ্যকর খাবার, কিন্তু যদি প্রতিবার খাবারের সময় বা এমনকি প্রতিদিনও খাওয়া হয় তবে এগুলো হৃদরোগ হবার সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে আনে। তাই এগুলোকে সপ্তাহে মাত্র কয়েকবার বা তার থেকে কম বার খাওয়া উচিত।
  • মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত করা শ্বেতসার জাতীয় খাবারের কোন প্রয়োজনীয়তাই নেই, এবং এগুলোকে প্রতিদিন খেলে ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনাই বেশী।
  • অল্প পরিমাণে চর্বির প্রয়োজন কিন্তু যদি প্রচুর পরিমাণে খাওয়া হয় তবে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ উভয়ই হতে পারে। লাল মাংস, পাম তেল, তেলে ডুবিয়ে ভাজা খাবার, এবং কারখানায় তৈরী খাবারগুলোই হলো চর্বির মূল অস্বাস্থ্যকর উৎস। এগুলো কম করে খেতে চেষ্টা করুন। বাদাম, আভোকাডো, এবং মাছ হলো চর্বির স্বাস্থ্যকর উৎস এবং এগুলোতে অন্যান্য পুষ্টিউপাদানও থাকে, তাই এগুলো হলো সবথেকে ভাল পছন্দ।
NWTND Nut Page 17-1.png
  • লবন যদি বেশী পরিমাণে খাওয়া হয় তবে তা হৃদরোগের অবনতি ঘটাতে পারে। আপনার যদি হৃদরোগ বা উচ্চ রক্ত চাপ থাকে তবে নোনতা, মোড়কজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। কৌটাজাত খাবারে প্রায় সব সময়েই অতিরিক্ত লবন থাকবে। আপনার খাবারের যখন স্বাদযুক্ত করবেন তখন সামান্য লবনযুক্ত করুন, বা তার পরিবর্তে গুল্মলতা বা মশলা ব্যবহার করুন।


কোক এবং অন্যান্য বোতলজাত বা কৌটাজাত মিষ্টি পানীয় বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর। এগুলো মূলত শুধুমাত্র জল ও চিনির সংমিশ্রণ, ও রং ও স্বাদযুক্ত করার জন্য রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। এগুলো প্রতিদিন পান করলে ডায়াবেটিসের সৃষ্টি করতে পারে বা এর অবনতি করতে পারে, দাঁতের ক্ষয় করতে পারে, এবং স্বাস্থ্যের জন্য ভাল না এমন কিছু দ্বারা আপনার পেট ভরিয়ে তোলে।

আপনি যদি মোটা হন: ওজন কমানো আপনাকে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ উভয় থেকেই রক্ষা করতে পারে। ধীরে ধীরে ওজন কমানো অল্প সময়ে অনেক বেশী ওজন কমানোর থেকে নিরাপদ। সবথেকে নিরাপাদ, সবথেকে বেশী দীর্ঘস্থায়ীভাবে ওজন কমানোর উপায় হচ্ছে প্রায়ই শরীর চর্চা করা (সপ্তাহে পাঁচ দিন বা তারও বেশী) এবং শালীন আকারের খাবার খাওয়া। উপরে তালিকাকৃত খাবারগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

আরও দীর্ঘ সময় ও ভালভাবে বেঁচে থাকার আর একটি উপায় হলো ধূমপান ছেড়ে দেয়া। ধূমপান ছেড়ে দেয়া আপনাকে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, এবং ক্যান্সার থেকেও রক্ষা করবে। ধূমপানের বিপদের উপর আরও জানতে মাদক, এ্যালকোহল, এবং তামাক (সংকলিত হচ্ছে) দেখুন।

স্বাস্থ্য একটি জনগোষ্ঠীভিত্তিক বিষয়

আমরা কী খাই এবং কিভাবে আমরা আমাদের জীবন যাপন করি তা আংশিকভাবে আমাদের নিজস্ব চয়নের ফলাফল, কিন্তু আমাদের জন্য কী খাবার, কোন ধরনের কাজ, এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা সহজলভ্য এবং সামর্থ্যের মধ্যে তার ফলাফলের উপরও এগুলো নির্ভর করে। আমরা স্বাস্থ্যকর খাওয়া ও শরীরচর্চার অভ্যেস গড়ে তুলতে পারি, কিন্তু আমাদের বাছাই করার সুযোগ প্রায়শই সীমাবদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ আমরা কী খেতে চাই ও ভাল খাবার রান্নার জন্য আমাদের কোন সময় আছে কিনা তা হলো একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এমন অনেকগুলো বিষয়ের ফলাফল: যেমন বিজ্ঞাপন, আমাদের কাজ কিভাবে সংগঠিত হচ্ছে, এবং আমাদের পরিষ্কার জল ও একটি ভাল রান্নাঘরে প্রবেশগম্যতা আছে কিনা। এই অবস্থাগুলো প্রচুর সংখ্যক লোকের বেলায় বিদ্যমান এবং শুধুমাত্র সমবেত সক্রিয়তার মাধ্যমে বা সরকারী নীতি মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায়।

‘আমাদের খামার বাঁচাও’ এবং ‘আমদানীকৃত দামী খাবার নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে এক দল লোক

পরিবর্তনের জন্য সক্রিয়তার একটি কেন্দ্রীভূত লক্ষ্য থাকতে পারে যেমন কোক বা যে কোন চিনিযুক্ত পানীয় বিদ্যালয়গুলো থেকে সরিয়ে ফেলা, বা সকল ছাত্রছাত্রীদেরকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রদান করা। কার্যক্রমগুলো শহরজুড়ে হতে পারে যেমন থাইল্যাণ্ডের ব্যাংক শহর কর্তৃপক্ষের বিনামূল্যে প্রাত্যহিক শরীরচর্চা অধিবেশন পরিচালনা করা, বা নীচের সিক্লোবিয়ার কাহিনী। বড় কৃষিভিত্তিক কোম্পানীর মুনাফাকে অর্জনকে সহায়তা করে এমন নীতিমালার পরিবর্তে ছোট ছোট কৃষক ও স্থানীয় বাজারকে সুবিধা দেবার জন্য জাতীয় ও স্থানীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। কৃতকার্যতার সাথে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করা ও এর চিকিৎসার জন্য পরিবর্তন এই সকল স্তরেই অর্জন করতে হবে।

সিক্লোবিয়া

কলোম্বিয়া বোগতার (দক্ষিণ আমেরিকার একটি বিশাল শহর) জনগণ বিপদজ্জনক, জনাকীর্ণ রাস্তা ও দূষিত বায়ুর ব্যপারে হয়রান হয়েছিল। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন শহর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে, তারা এবিষয়ে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলো: তারা তাদের শহরের কিছু অংশ গাড়ী ও ট্রাকের আয়ত্ব থেকে ফিরিয়ে নেবে এবং এটিকে জনগণের জন্য বাসযোগ্য করে তুলবে। শহর কর্তৃপক্ষটি শতশত গাড়ী রাখার স্থান ভেঙ্গে ফেলল, ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশী পথ নির্মাণ করলো দু’চাকার সাইকেলের জন্য, এবং ব্যস্ততম সময়ে রাস্তায় অনুমোদনকৃত গাড়ীর সংখ্যা সীমাবদ্ধ করে দিলো।


তাদের সবথেকে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আবিষ্কার (এখন বিশ্বের অনেক শহরেই এর অনুকরণ করা হচ্ছে) হলো সিক্লোবিয়া: প্রতি রবিবার প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। দু’চাকার সাইকেল চালক, স্কেটিংকারী, হুইলচেয়ার চালক, এবং পদচারীরা এটি দখল করে। বিভিন্ন উদ্যানগুলোতে নাচ ও অনুশীলনের অধিবেশন পরিচালনা করা হয় বিনামূল্যে। বিনামূল্যে সাইকেল ভাড়া দেয়া হয়।


একটি গুরুতর সমস্যার সমাধানে এর আয়োজন করা হয়ে থাকলেও, সিক্লোবিয়া একটি মজার বিষয়। এটি একটি সাপ্তাহিক আনন্দমেলা যেখানে শহরের সকলে আমন্ত্রিত। শিশু ও পিতা-মাতামহ বিভিন্ন উদ্যানগুলোতে একত্রে নাচে, সকল বয়েসের মানুষ সাইকেল চালায়, স্কেট করে, এবং ফাঁকা রাস্তা দিয়ে দৌড়ায় যে রাস্তাগুলো সাধারণতঃ সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে গাড়ীতে জমে থাকে। এটি শরীরচর্চা করা, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সাথে দেখা হওয়া, এবং নতুন বন্ধু তৈরী করার একটি মজার উপায়। এটি শহুরে জীবন যাপন করার একটি ভিন্ন ও ভাল উপায়।


প্রথমে কোন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই ধারণারটি বিরোধিতা করেছিল কারণ তারা মনে করেছিল যে এটি যানজটের সৃষ্টি করবে এবং কেনাকাটা করার সময়কে বাধাগ্রস্ত করবে। কিন্তু সিক্লোবিয়া এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে তারা অভিযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন বোগতার জনগণ তাদের শহরকে সপ্তাহের ৭ দিনই আরও বেশী নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, এবং আরও বেশী মজার করে তোলার উপায় খুঁজছে।
বড় একদল সূখী মানুষ রাস্তায় সাইকেল চালাচ্ছে, হাঁটছে, দৌড়াচ্ছে, এবং হুইলচেয়ার চালাচ্ছে



এই পাতাটি হালনাগাদ করা হয়েছে: ২৩ সেপ্টে ২০১৯